অনেক বাবা-মায়েরই সাধারণ অভিযোগ—সন্তান একদমই পড়তে চায় না বা পড়ার টেবিলে বসলেও মনোযোগ দিতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের শেষ থাকে না অভিভাবকদের।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শিশুর এই পড়াশোনায় অনাগ্রহ বা অমনোযোগের পেছনে কেবল অবহেলা নয়, বরং পরিবেশগত, শারীরিক ও মানসিক একাধিক কারণ দায়ী থাকতে পারে।
শিশু নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সানজিদা আহমেদের মতে, বর্তমান সময়ে শিশুদের পড়াশোনায় অমনোযোগের অন্যতম প্রধান কারণ ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার বা স্ক্রিন টাইম।
টেলিভিশন, মোবাইল ফোন বা ভিডিও গেমের প্রতি আসক্তি শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং আচরণগত সমস্যা তৈরি করে।
এছাড়া অভিভাবকদের অতিরিক্ত চাপ বা ‘প্যারেন্টিং স্ট্রেস’ এবং পর্যাপ্ত খেলাধুলার অভাবও শিশুদের পড়ার প্রতি বিমুখ করে তোলে।
শারীরিক সমস্যার মধ্যে রক্তস্বল্পতা, আয়রনের ঘাটতি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা এডিনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার ফলে শিশুর ঘুম ঠিকমতো না হলে তার প্রভাব পড়ে পড়াশোনায়।
মানসিক ও বিকাশজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার বা এডিএইচডি (অতি চঞ্চলতা), বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা এবং কিছু বিরল ক্ষেত্রে মৃগী রোগের কারণেও শিশু অমনোযোগী হতে পারে। জন্মের সময় অক্সিজেনের অভাব বা হরমোনের ঘাটতিও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এ সমস্যা সমাধানে ডা. সানজিদা আহমেদ ইতিবাচক প্যারেন্টিং বা ইতিবাচক অভিভাবকত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শিশুকে মারধর বা নেতিবাচক মন্তব্য না করে বরং তার কাজের প্রশংসা করে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জরুরি।
শিশুকে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে সরিয়ে ঘরের দৈনন্দিন কাজে যুক্ত করা এবং গুণগত সময় দেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিশুর আচরণ, ঘুমের ধরন ও দৃষ্টিশক্তির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। শিশু যদি খুব কাছ থেকে টিভি দেখে বা সারাক্ষণ অস্থির থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
পরিশেষে, শিশুর অমনোযোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। হরমোন বা আয়রনের ঘাটতি কিংবা কোনো স্নায়বিক সমস্যা থাকলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে তা সারিয়ে তোলা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতন হলে এবং উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করলে প্রতিটি শিশু তার বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক বিকাশ লাভ করতে পারবে।
আরটিভি/এএইচ




